চট্টগ্রাম টুডে ডেক্সঃ
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন খান চুপ্পু প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনুসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, তিনি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে নিজেকে ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। এছাড়াও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকে প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনুসের বিভিন্ন বিতর্কিত কাজের সমালোচনা প্রকাশ পায়।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তার প্রেস বিভাগকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি থাকত। আর এগুলো এক রাতে হঠাৎ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে ভুল বার্তা যায় যে, হয়তো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছি।’তিনি বলেন, প্রতিকৃতি অপসারণ নিয়ে তিনি ড. ইউনুসকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘‘আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি চলে যেতে চাই।’’ দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম কোনও গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার দিলেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদের কারণে আমি আমার অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখছি।’’ তবে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মন্তব্য জানতে চাইলেও তার প্রেস-উপদেষ্টারা এই বিষয়ে রয়টার্সের অনুরোধের তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
গত বছরের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে ভারতে রেখে আসেন। শেখ হাসিনা ভারত যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা আরও গুরুত্ব পায়। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি দেশের সর্বশেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হন।

