Skip to main content

চট্টগ্রাম টুডে

সর্বত্র জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের দাবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১-এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নারী অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের কোরবানীগঞ্জ বলুয়ারদীঘির পূর্ব পাড়ে একটি মিলনায়তনে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বিষয়ক পরামর্শ সভা ও কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

নাগরিক সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে, অপরাজেয় বাংলার সহায়তায় যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস) বাস্তবায়িত ‘পারায়ণ’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে জেএসইউএসের সহসভাপতি ও সাংবাদিক বিপুল বড়ুয়া বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আজকের আয়োজন। নারীদের সহিংসতা থেকে বাঁচাতে হলে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার প্রতি আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। আমরা চাই, তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত নারী উন্নয়ন নীতিমালা অনুসারে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হোক। এতে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেএসইউএসের সহকারী পরিচালক (এসডিপি) আরিফুল ইসলাম। জেএসইউএসের প্রোগ্রাম অফিসার রাজেশ রতন মল্লিকের সঞ্চালনায় কর্মশালাটি পরিচালনা করেন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শুভা বড়ুয়া ও কনসালট্যান্ট দনিয়া খন্দকার।

দিনব্যাপী কর্মশালায় শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, উদ্যোক্তা, প্রতিবন্ধী নারী, ইউপি সদস্য, আইনজীবী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বলুয়ারদীঘি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মল্লিকা বড়ুয়া, ব্লাস্টের প্যারালিগ্যাল তৌহিদা খানম, ইউপি সদস্য খুরশিদা বেগম, প্রতিবন্ধী যুব নারী পিংকী চৌধুরী, নারী কৃষক হোসনেয়ারা বেগম, দৈনিক দেশ বর্তমানের স্টাফ রিপোর্টার মনীষা আচার্য, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, ইউসেপ স্কুলের ফিল্ড ইনস্ট্রাক্টর দেবাশীষ চক্রবর্তী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পৌর সমাজকর্মী রুবি আক্তার, কারিতাস বাংলাদেশের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ব্লিন গনজালভেস, ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্বাস্থ্যকর্মী মরতুজা বেগম, কমিউনিটি লিডার নাসিমা বেগম, উদ্যোক্তা সৈয়দা আঞ্জুমান সুলতানা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিলুয়ারা বেগম, কমিউনিটি লিডার আরজু বেগম এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাসমিয়াহ আক্তারসহ অনেকে।

এ ছাড়া জেএসইউএসের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার মধু পুরোহিত, কাউন্সিলর কাম ট্রেনার শান্তা মল্লিক, সোশ্যাল ওয়ার্কার সেহেলী সুলতানা, ফিল্ড অফিসার রুম্পা দাস গুপ্তা ও ফিল্ড অফিসার শাহীনূর আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করে। এ নীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার ও সমসুযোগ নিশ্চিত করা এবং নারীর সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও সমসুযোগ নিশ্চিত করা, নারীর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ, সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারীর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে অপরাজেয় বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে জেএসইউএস চট্টগ্রামের বাঁশখালী, পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাসহ নগরীর ১৭, ১৮, ১৯, ৩২ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা কমাতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

বিষয়:

বিশেষ প্রতিবেদন

সর্বশেষ

Find Us on Youtube