নিজস্ব প্রতিবেদক
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শত শত বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার গভীর রাতে ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের একটি শেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।আগুনে বসত ঘর হারিয়ে উন্মুক্ত স্থানে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাযায়, ভোররাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন লেগেছিল। এরপর দমকলের ১০টি ইঞ্জিন প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তখনও বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলছিল। শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ কুলিং অফ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কীভাবে আগুন লাগল, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে সরকার এই ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে ১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এবং কয়েকদিন আগে ইতালির সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য বড় অংকের একটি অনুদান দিয়েছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানাযায় জানায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি শেডে আগুন লাগে। বাতাসের তীব্রতায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেডগুলোতে। খবর পেয়ে উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফ থেকে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, ‘আগুন লাগার পর লোকজনের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি চারদিকে আগুন আর আগুন। বউ-বাচ্চাদের কোনো রকম রক্ষা করেছি। তবে বাকি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা রোহিঙ্গা হাফেজ কলিমউল্লাহ বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আগুন লাগে। এই আগুনে পুরো ব্লক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার ল্যাপটপ, রেডিও থেকে সবকিছু শেষ। এখন খুব কষ্টে আছি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে । তবে এর ক্ষয়ক্ষতি ও আসল কারণ জানতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বসতঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সঠিক কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

