ডা. সন্দীপ ধাবন
বাংলাদেশে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর, গলায় জ্বালাপোড়া কিংবা খাবারের পর অস্বস্তির মতো সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে ধরে নেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দীর্ঘদিন ফার্মেসি থেকে অ্যান্টাসিড বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) জাতীয় ওষুধ সেবন করে সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, এই উপসর্গগুলো অনেক সময় গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি’র লক্ষণ হতে পারে।
বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণা মতে, বিশ্বব্যাপি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ কোন না কোন সময়ে জিইআরডি-তে আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এই সমস্যার হার দ্রুতই বাড়ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, ধূমপান, উচ্চ মানসিক চাপ ইত্যাদিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জিইআরডি মূলত পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে আসাকে বোঝায়। সাধারণ অবস্থায় লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্ফিঙ্কটার বা এলইএস নামক একটি পেশী ভাল্ভের মতো কাজ করে এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠতে বাধা দেয়। কিন্তু যখন এই ভাল্ভ দুর্বল হয়ে যায় বা ঠিকমতো কাজ করে না, তখন পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে। এর ফলে হার্টবার্ন বা বুক জ্বালা, অ্যাসিড রিগারজিটেশন বা টক ঢেকুর, ডিসফ্যাজিয়া বা গিলতে অস্বস্তি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে খাদ্যনালীর ভেতরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যা মেডিকেলের ভাষায় ইসোফেগিটিস নামে পরিচিত। কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যারেট’স এসোফেগাস জটিলতায় রূপ নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, সব কিছুকে গ্যাস্ট্রিক হিসেবে ধারণা না করে এসব উপসর্গকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিৎ।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু উপসর্গকে ‘অ্যালার্ম সিমটমস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেমন; গিলতে কষ্ট হওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বমিতে রক্ত যাওয়া, কালো বর্ণের পায়খানা ইত্যাদি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে আপার জিআই এন্ডোস্কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যার মাধ্যমে খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও ডুওডেনামের ভেতরের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। নিয়মিত সময়মতো খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার কমানো, খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার ইত্যাদির মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, অত্যাধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের সেবা পাওয়া যাচ্ছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে। এখানে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে অত্যাধুনিক এন্ডোস্কপি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে জিইআরডিসহ বিভিন্ন রোগের নির্ভুল সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
সুতরাং, দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা বা গ্যাস্ট্রিক যা’ই বলা হোক না কেন, এই সমস্যাগুলো অবহেলা না করে সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
লেখক
ডা. সন্দীপ ধাবন
এমবিবিএস, এমডি (মেডিসিন) ডিএম (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি) (পিজিআইএমইআর-চন্ডিগড়, ভারত)
সিনিয়র কনসালটেন্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এন্ড হেপাটোলজি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

