Skip to main content

চট্টগ্রাম টুডে

বিশেষজ্ঞদের মতামত: বাংলাদেশে আট থেকে দশ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে

চট্টগ্রাম টুডে ডেক্সঃ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

মাত্রা আট বা তার বেশি হতে পারে।’ ভূমিকম্পের উৎস কোথায় সেটা ক্যালকুলেশন করে বের করেছি। সিলেট সীমান্তঘেঁষা এলাকায় এই বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। তবে কখন হবে সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

একই ইঙ্গিত দিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার হোসেন বলেন, ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎসের একটি মেঘালয়ের পাদদেশে, যেটা আট মাত্রায় হতে পারে। আরেকটি বড় উৎস আরও ভয়াবহ—সেটি হলো ‘সাবডাকশন জোন’। এটি সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। সাবডাকশন জোনটি শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হাওর অঞ্চল হয়ে মেঘনার পূর্বাংশ পর্যন্ত। এটি ১২ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে। তবে এসব ভূমিকম্পের প্রভাব অনেকটা ভারতের দিকে ঝুঁকে যাবে। তবে ‘ভূমিকম্প কখন হবে—এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। তবে আমরা যদি আতঙ্কিত না হয়ে কী করা উচিত, তা আগে থেকেই জেনে রাখি, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে।’

বিগত এক সপ্তাহে দেশে পরপর চারবার ভূমিকম্প হয়। হঠাৎ করে দেশে ভূমিকম্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে দেশে ভূমিকম্প পূর্বাভাস, ভূমিকম্পকালীন সচেতনতা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে ভূমিকম্প পরবর্তী সক্ষমতার অভাবের কারণে এর ভয়াবহতার পরিমাণ আরো ব্যপক হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে জনগণের অসচেতনতা, সরকারের পরিকল্পনাহীনতা এবং প্রস্তুতির অভাবে। ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বর্তমানে ঢাকার উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চল ভূমিকম্পের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি ৫ দশমিক ৭ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে মানুষ আতঙ্কিত হবে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ এমন তীব্র ঝাঁকুনি অনেকে এর আগে কখনো অনুভব করেননি। এজন্য মানুষের আতঙ্কিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তাছাড়া ভূমিকম্পের পর আফটারশক হয়, সে কারণে মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং অনেক জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়ায় জনগণের মাঝে এনিয়ে আরো বেশি ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ ঘোষণা করা হলো, তখন দেশব্যাপী আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা কার সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। তবে তাদের এটা করা উচিত হয়নি। এর ফলে সমাজে একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমরা যারা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করি, আমাদের সঙ্গে অন্তত কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।’

গুজবের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়া অফিসের অক্ষমতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদীতে হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পরের দিন আবার একটি ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর বাড্ডা বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানালেও, তা সরাসরি ‘ভুল ও অপপ্রচার’। তিনি বলেন, ‘বাড্ডায় ভূমিকম্পের যে তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল। ওটা নরসিংদীর ভূমিকম্পের আফটারশক।’

আবহাওয়া অফিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনো নিজেদের দক্ষতা-সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি। ভূমিকম্প যখন হয়, তখন কোথায় এবং কত মাত্রার হয়েছে, তা ওরা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারে না।’ প্রশ্ন করলে বলে, ‘আমরা কাজ করছি। পরে যখন ইউএসজিএস, ভারতীয় বা ইউরোপীয় বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাইটে তথ্য আসে, তখন তারা সেটিই হুবহু তুলে দেয়।’

‘একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, ‘ভূমিকম্প কখন হবে—এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। তবে আমরা যদি আতঙ্কিত না হয়ে কী করা উচিত, তা আগে থেকেই জেনে রাখি, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে। উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপান বা নিউজিল্যান্ডে ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প নিয়মিত হয়। তারা এ নিয়ে আতঙ্কিত হয় না, কারণ তাদের বাড়িঘর সেভাবেই নির্মিত। এ ছাড়া সেখানকার মানুষ ভূমিকম্প সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তারা জানে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হয়। আমাদেরও উচিত, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া।’

 

বিষয়:

বিশেষ প্রতিবেদন

সর্বশেষ

Find Us on Youtube